যাদের দোয়া সরাসরি কবুল হয়।_আমিসবজানি

যাদের দোয়া সরাসরি কবুল হয়।

ধর্ম ও জীবন

আজ আমরা পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তেগফারের অসংখ্য উপকারিতা থেকে ২১ টি গুরুত্বপূর্ণ  উপকারিতা ও ফজিলত আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব , ইনশাআল্লাহ্‌ ।

 

প্রতিদিন আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হই, এই একটি শব্দে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের সে সব সমস্যার সমাধান রেখে দিয়েছেন।

 

ইস্তেগফারের সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হচ্ছে আপনি ইস্তেগফার পড়তে থাকলে মুস্তাজাবুদ দাওয়া হতে পারবেন। অর্থাৎ বেশি ইস্তেগফার যাদের মুখে উচ্চারিত হয় রাব্বুল আলামিন তাদের মুখ দিয়ে যা বের হয় অর্থাৎ তাদের অন্তর যা কামনা করে আল্লাহ্‌ সাথে সাথে তা কবুল করে নেন এবং তাদের দোয়া সরাসরি কবুল হয়ে যায়। তারা মুস্তাজাবুদ দাওয়া হওয়ার গৌরব অর্জন করে।



 

আসুন দেখি আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের জন্য ইস্তেগফার এর মধ্যে কি কি নেয়ামত রেখে দিয়েছেন।  শুধুমাত্র একবার দিল থেকে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে ২১ টি উপকারিতা আছে । কোরআন ও হাদিসে আমরা ইস্তেগফার এর অসংখ্য উপকারিতা ও ফজিলত জানতে পারি, তার মধ্যে ২১ টি গুরুত্বপূর্ণ  উপকারিতা হলো,

 

১।         ইস্তেগফার আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় একটি আমল।

২।         ইস্তেগফার দ্বারা আল্লাহ্‌ তা’আলার  নৈকট্য হাসিল হয়।

৩।         ইস্তেগফার দ্বারা গুনাহ মাফ হয়।

৪।         ইস্তেগফার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

৫।         ইস্তেগফার দ্বারা ব্যবসায় লাভ হয়।

৬।         ইস্তেগফার দ্বারা আল্লাহ্‌র রহমত নাজিল হয়।

সহীহ নিয়তে ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহ্‌ করুণা ও দয়া করবেন, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “ যে গুনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে  অতঃপর আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে সে আল্লাহ্‌কে ক্ষমাশীল করুণাময় পায়” (সূরাহ নিসা – আয়াতঃ ১১০)।

৭।         ইস্তেগফার দ্বারা সন্তাত-সন্ততি যাদের হয়না তাদের সন্তান হয়।

৮।        ইস্তেগফার এর কারণে খরা-অনাবৃষ্টি থেকে রাব্বুল আলামিন মানুষদের মুক্তি দান করেন এবং বৃষ্টি বর্ষণ করেন।

৯।         ইস্তেগফার দ্বারা বাগানে ফসল ভালো হয়।

১০।       ইস্তেগফার দ্বারা কলবের ময়লা পরিষ্কার হয়।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলে কারীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “মুমিন ব্যক্তি যখন কোন গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে। তারপর সে যদি ফিরে আসে গুনাহের গুনাহের ইচ্ছাকে মন থেকে বের করে দেয় এবং ইস্তেগফার করে তাহলে তার অন্তর পরিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়। যদি আবার গুনাহ করে তাহলে এটি বাড়তে থাকে। অবশেষে গুনাহ গুলোর কারণে তার অন্তর মরিচা আচ্ছাদিত হয়ে যায়। বস্তুত এটা আলোচনা করে পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে যে, “কখনো না বরং তারা যা করে তাই তাদের হৃদয়ে মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে”। ( সূরাহ মুতাফফিফীন- আয়াতঃ ১৪ )

১১।       ইস্তেগফার দ্বারা সকল সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১২।       ইস্তেগফার দ্বারা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১৩।       ইস্তেগফার দ্বারা মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন প্রিয়নবী সাঃ ইরশাদ করেছেন যে ব্যক্তি ইস্তেগফার করাকে সর্বদা গ্রহণ করে মহান আল্লাহ্‌ তাকে সব সংকীর্ণতার মধ্যে উদ্ধারের পথ বের করে দেন, সব দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে মুক্তির পথ বের করে দেন এবং তাকে এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন যা সে চিন্তাও করেনি। ( আবু দাউদ ও আহমদ )

১৪।       ইস্তেগফার দ্বারা সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়।

হযরত বিল্লাল ইবনে ইয়াসার ইবনে যায়েদ  (রাঃ) [যিনি ছিলেন প্রিয় নবী সাঃ এর আযাদকৃত গোলাম] তিনি বর্ণনা করেন, তিনি তার বাবা ও দাদার সূত্রে বলেন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি পড়ে আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম ওয়াতুবু ইলাইহি, তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, এমনকি ধর্মযুদ্ধ থেকে পলায়নের গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। (তিরমিজি মিশকাত)

১৫।       হৃদয়ে আল্লাহ্‌র ভয় জাগ্রত হয়।

১৬।       নেক কাজ করতে মনে চায়।

১৭।       গুনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয়।

১৮।       ইবাদাতে একাগ্রতা তৈরি হয়।

১৯।       বিপদ-আপদ থেকে আল্লাহ্‌ তা’আলা হেফাজত করেন।

২০।       ইস্তেগফার দ্বারা আল্লাহ্‌র আযাব আসেনা।

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, “হে রাসূল ! আল্লাহ্‌ কখনই তাদের উপর আযাব নাজিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ্‌ কখনো তাদের উপর আযাব দেবেন না। (সূরাহ আনফাল- আয়াতঃ ৩৩)

২১।       ইস্তেগফার করার পর আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দার দোয়া কবুল করেন।

আস্তাগফিরুল্লাহ প্রতিদিন পাঠ করুন তবে পড়ার সময় মনে মনে নিজের গুনাহের জন্য লজ্জিত হন, এটা যেন না হয় জবানে করছেন আর মনে মনে গুনাহের খেয়াল করছে। রাবেয়া বসরী (রাঃ) [রাদিআল্লাহু তা’আলা আনহা] বলেন আমরা এমন ধরনের ইস্তেগফার করি, যে সেটার উপরে ইস্তেগফার করার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ মুখে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করছি গুনাহ থেকে, কিন্তু মনে মনে গুনাহের খেয়াল করছি আর এ ধরনের ইস্তেগফারের জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন হয়। ইস্তেগফার করলে তা প্রকৃতার্থে এবং খালেস নিয়তে করা উচিত। কেননা গুনাহে অটল থেকে তওবা করার অর্থ আল্লাহ্‌ তা’আলার সাথে ঠাট্টা মশকরা করা। (নাউজুবিল্লাহ)

 

 

এবার জেনে নেই ইস্তেগফার কিভাবে পড়বেন, ইস্তেগফার কয়েকভাবে পড়া যায়। যা হাদিসসমূহে বর্ণিত রয়েছ,

১।         শুধু “আস্তাগফিরুল্লাহ” এভাবে পড়তে পারেন, যার অর্থ আমি আল্লাহ্‌র ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (মিশকাতঃ ৯৬১)

২।         আস্তাগফিরুল্লাহ হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুম কাইয়ুম ওয়াতুবু ইলাইহি, এভাবে পড়তে পারেন। (তিরমিজি মিশকাত)

৩।         সুবহানাল্লাহি  ওয়া বিহামদিহী আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়াতুবু ইলাইহি। (বুখারী ও মুসলিম)

৪।         আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি। (নাসাঈ)

 

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের সবাইকে বেশি বেশি ইস্তেগফার করার তৌফিক দান করুন। আমিন !

 

দোয়া কবুলের শর্ত, 

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *